Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu
404 Not Found

404 Not Found


nginx/1.12.1

Posted by on Oct 13, 2015 in Press Relise |

অনলাইনে কাজের দেশি মার্কেটপ্লেস

অনলাইনে কাজের দেশি মার্কেটপ্লেস

প্রযুক্তির কল্যাণে বদলে গেছে কাজের ধরন। পরিবর্তিত হয়েছে কাজের পরিবেশ। পাল্টে গেছে কর্মী নিয়োগ পদ্ধতিও। দক্ষ ও মেধাবী কর্মীরা এখন ঘরে বসেই কাজ করতে পারছেন। অনলাইনে ঘুরছে কাজ। আর সেই কাজ করে দিলেই মিলছে পারিশ্রমিক। ঘরে বসেই ইচ্ছা ও প্রয়োজন অনুযায়ী তারা আয় করতে পারছেন বৈদেশিক মুদ্রা। আর এ কাজের জন্য এতদিন নির্ভর করতে হতো ফ্রিল্যান্সার, আপওয়ার্ক, ৯৯ ডিজাইন, ইল্যান্সার, ইনভ্যাটো স্টুডিও, সিওক্লার্কের মতে বিদেশি অনলাইন জব মার্কেটপ্লেসের ওপর। ভাষা থেকে শুরু করে পেমেন্ট জটিলতায় অনেকেই এসব মার্কেটপ্লেসে স্বস্তিতে কাজ করতে পারে না। মুক্ত পেশাজীবীদের মতো নিয়োগদাতা বা জব কন্ট্রাক্টররাও বিদেশনির্ভরতার সীমায় আটকে ছিলেন। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে যাত্রা শুরু করেছে দেশের প্রথম অনলাইন জব মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সার। এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন মাসে ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার। অনলাইনে রয়েছে ৫০ লাখ টাকার কাজ। মোট নয় হাজার বাছাইকৃত মুক্ত পেশাজীবীর মধ্যে রয়েছে ৫০০ সক্রিয় কর্মী। এর মধ্যে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার ১৫ হাজার এবং ক্লায়েন্ট রয়েছে এক হাজার ৩০০ জন। ইতিমধ্যে জমা পড়েছে প্রায় এক হাজার প্রকল্প। এর মধ্যে আমেরিকা ও ইউরোপ থেকেই এসেছে ৩০ শতাংশ কাজ। বিনামূল্যে নিবন্ধনযোগ্য মার্কেটপ্লেস থেকে ফ্রিল্যান্সাররা নির্দিষ্ট কাজটি পেয়ে থাকলে আয়ের ওপর ১০ শতাংশ [ফ্রিল্যান্সার : ৫ ও এমপ্লয়ার ৫ শতাংশ] চার্জ নিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

belancer

বিল্যান্সার কী?
বৈধ ও সুরক্ষিত পথে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের কাজের অবারিত সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ এবং প্রথম অনলাইন ওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সার। বিল্যান্সারের স্বপ্নদ্রষ্টা শফিউল আলম। তবে তরুণ উদ্যোক্তা মো. শফিউল আলমের বাবা ময়মনসিংহের চেয়ারম্যান শওকত আলী এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। এই দু’জনের সঙ্গে বিল্যান্সারে রয়েছে আরও আটজন কো-ফাউন্ডার। তরুণ উদ্যোক্তা শফিউল আলম প্রায় ১০ বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানিতে দেশে এবং দেশের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে এসএসএল ওয়ার্লেস, ইনফোরেক্স, আইপে, ফাস্ট গ্গ্নোবাল ডাটা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস কিংবা পেমেন্ট গেটওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তবে এখন নিজের প্রতিষ্ঠান হাইপারট্যাগ সল্যুশন্স লিমিটেডে সময় দিচ্ছেন। হাইপারট্যাগ তার মূল কোম্পানি হলেও স্বপ্নটা বুনেছেন বিল্যান্সারকে নিয়ে। বিল্যান্সারে তার সঙ্গে হাইপারট্যাগের কর্মীরাও কাজ করছেন। বিল্যান্সার নিয়ে স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রাযুক্তিক দক্ষতা এবং যোগ্যতার মাধ্যমে বছরের মুক্ত পেশায় যুক্ত রয়েছে দেশের লক্ষাধিক তরুণ ফ্রিল্যান্সার। তাদের নৈপুণ্যে বিশ্বে কখনও অন্যতম ফ্রিল্যান্সিং গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রয়োজন ছিল নিজস্ব প্লাটফর্ম, লোকাল মার্কেটপ্লেস। নিজের দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একেবারে নিজস্ব মার্কেটপ্লেস তৈরির লক্ষ্যেই চলতি বছরের মে মাসে বিল্যান্সারের যাত্রা শুরু। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের নিজেদের আইটি সংশ্লিষ্ট কাজের পরিমাণ প্রায় ১৬০ মিলিয়ন ডলার। দেশীয় এমপ্লয়ারদের নিজেদের ব্যক্তিগত রেফারেন্স বা সার্চ ইঞ্জিনের সহায়তা ছাড়া আর কোনো বিকল্প না থাকা এবং কোনো বিডিং করার সুবিধা না থাকার সীমাবদ্ধতা দূর করতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিল্যান্সার’। ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের স্থানীয় বাজারের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পেমেন্ট। অনেক এমপ্লয়ার টাকা পরিশোধ করেছেন কিন্তু তদ্রূপ সেবাটি পাননি। আবার অনেক ফ্রিল্যান্সার বা এজেন্সিকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়েছেন কিন্তু এমপ্লয়ার ঠিকমতো পারিশ্রমিক পাননি। সেসব জটিলতাও এখন দূরীভূত হচ্ছে বিল্যান্সারের মাধ্যমেই। শফিউল বললেন, আমাদের ২৩ লাখ ছোট মাঝারি কোম্পানি আছে যাদের কোনো না কোনো প্রসেস টেকনোলজিটে মাইগ্রেট করবেন তাদের নিজস্ব প্রোডাক্টিভিটি ডেভেলপ করার জন্য কিন্তু তাদের জানা নেই বা সাহায্য করার কেউ নেই, কীভাবে কাজটি করাবেন বা কার কাছে যাবেন সেই কারণে বিল্যান্সারের মতো একটি লোকাল মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। অন্যদিকে আমাদের দেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থী প্রায় পুরো অংশ অলস সময় কাটান। কিন্তু বিশ্বায়নের এই যুগে যে কেউ যে কোনো জায়গা থেকে কাজ করতে পারবেন, পুরো সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই, পড়াশোনার পাশাপাশি আংশিক একটি সময় যদি একটি কাজের ক্ষেত্র খুঁজে নিতে পারে তাহলে আমাদের একি অর্থনীতিতে ধনাত্মক একটি প্রভাব পড়বে এবং বেকারত্বের হার অনেকাংশ কমবে।
অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসটিতে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বায়াররা কাজ পোস্ট করতে পারছেন। এখান থেকে অনলাইনে দরকষাকষি করে কাজ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের লাখ লাখ ফ্রিল্যান্সার। বর্তমানে দেশের বাইরে থেকে কনটেন্ট রাইটার, ডাটা এন্ট্রি, এসিও, এসএমও, ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মতো ‘মাইক্রো জব’ করছেন দেশের তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা। দেশের মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপস, কনটেন্ট রাইটিং, ই-কমার্স সাপোর্ট বিষয়ে বিস্তর কাজ হচ্ছে বিল্যান্সার প্লাটফর্মের মাধ্যমে। প্রতি সপ্তাহে উন্নত হচ্ছে নবীন এই চাকরি মেলার ফিচার। হাজারের অধিক ফিচারের মধ্যে রয়েছে ৭৮টি কোর মডিউল। চলতি মাসেই উন্মুক্ত হচ্ছে ১৫টি নতুন ফিচার। বিডিং ইঞ্জিন, ফাইন্যান্সিয়াল মডিউল, সিকিউরিটি মডিউল এদের অন্যতম। একজন এমপ্লয়ার বিনামূল্যে তার প্রজেক্টির বর্ণনাসহ বিল্যান্সারে পোস্ট করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সারদের প্রস্তাবনাগুলো তুলনা ও কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জেনে অনলাইনেই বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে কর্মী নির্বাচন করা যায় খুব সহজেই। আলোচনার ভিত্তিতে কর্মী এবং কর্মদাতা তাদের প্রকল্প সম্মানী নির্ধারণ করেন এবং বিল্যান্সারের মাধ্যমেই নিরাপদে কাজের পারিশ্রমিক আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্সারদের এবং আমাদের লোকাল ক্লায়েন্টদের সমস্যা সমাধানে লক্ষ্যে বিল্যান্সার মার্কেটপ্লেসটি বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যার মাধ্যমে বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সার এবং দেশীয়, আন্তর্জাতিক এমপ্লয়াররা নিবন্ধন করে কাজ পোস্ট করতে পারছেন এবং ফ্রিল্যান্সাররা তাদের পছন্দ ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কাজে বিড করতে পারছেন। এমপ্লয়াররা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সাশ্রয়ী মূল্যে কাজটি সমাধা করতে পারছেন। ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে অনেকেই এ প্লাটফর্মে কাজ করাচ্ছেন। আবার দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানও বাইরের দেশ থেকে এক্সপার্টদের পরামর্শ নিতে পারছেন। বিল্যান্সারে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের পেপাল অ্যাকাউন্টসহ লোকাল পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে। ভিসা, মাস্টারকার্ড, অ্যামেক্স এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যেমে সব ধরনের পেমেন্ট সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারও সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সেবাটি নিতে পারছেন। এখানে প্রকল্প নির্বাচনের পর এমপ্লয়াররা জামানত রাখছেন। তাই ফ্রিল্যান্সাররা নিরাপদে কাজ করতে পারছেন। প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিল্যান্সার নিয়ে দারুণ আশাবাদী শফিউল ইসলাম। আগামী বছরের শুরুতে পুরোদমে যাত্রা শুরু করবে সম্ভাবনাময় এই মার্কেটপ্লেসটি। তবে শুধু বাংলাদেশে আটকে না থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কেটপ্লেসটির কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে আগামী বছরের শুরুতে ভারত এবং নেপালে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বিল্যান্সার।

 

বিল্যান্সার – সবার জন্য কাজ ।

Source: সমকাল (টেকলাইন) , প্রিন্ট সংস্করণ, ১৩ অক্টোবর ২০১৫

Share This

Share this post with your friends!

404 Not Found

404 Not Found


nginx/1.12.1
404 Not Found

404 Not Found


nginx/1.12.1
404 Not Found

404 Not Found


nginx/1.12.1