Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu
404 Not Found

404 Not Found


nginx/1.12.1

Posted by on May 6, 2015 in Belancer Academy |

দেশি মার্কেটপ্লেস কেন দরকার, বিল্যান্সারের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

দেশি মার্কেটপ্লেস কেন দরকার, বিল্যান্সারের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

মো: শফিউল আলম, উদ্যোক্তা-বিল্যান্সার : বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনাময় দ্রুত অর্থনৈতিক বর্ধনশীল এবং নেক্সট ইলাভেন ইমারজিং ইকোনমিক দেশ হিসাবে ক্লাসিফাইড হয়েছে। বিশ্বের মানচিত্রে ফ্রন্টিয়ার ফাইভ হিসাবেও স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রযুক্তির দিক দিয়ে বিবেচনা করলে আমরা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার সফটওয়ার এক্সপোর্ট করে থাকি আর ফ্রিল্যান্সিয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) তথ্যে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা আয় করেছে ৫০৮ কোটি টাকা। ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৮ সাল নাগাদ এই আয় এক বিলিয়ন ডলারে নেয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

আমাদের আছে এক ঝাঁক মেধাবী শিক্ষিত বেকার তরুণ- তরুণী যাদের আছে কিছু করার অদ্যম আগ্রহ আর তারাই পাল্টে দিতে পারে এই বাংলাদেশকে। শুধু প্রয়োজন প্লাটফর্ম।

এবার সরাসরি চলে আসি বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সার প্রসঙ্গে। একটি দেশিয় মার্কেটপ্লেস আসছে এবং পরবর্তীতে এই মার্কেটপ্লেস যে বিল্যান্সার এ নিয়ে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় টেকশহরডটকমে। প্রতিবেদন দুটি পাবলিশ হবার পরপরই ফ্রিল্যান্সার সোসাইটিতে শোরগোল পরে যায় এবং আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরের বিভিন্ন ধাপ থেকে নানা প্রতিক্রিয়া, নানা পরামর্শ আসতে থাকে। আর এসব আলোচনা-সমালোচনা ও পরামর্শ আমাদেরকে দারুণভাবে সহযোগিতা করছে। আমরা মার্কেট ফিডব্যাক এবং সেন্সাসগুলো বিশ্লেষণ করতে থাকি।

টেকশহরের নিউজের পরবর্তী ১৮ ঘন্টায় প্রায় এক লাখ আঠারো হাজার ভিজিটর ঘুরে গেছেন বিল্যান্সার সাইটে। এতো এতো অভিমত-পরামর্শ পেয়েছি আমরা যা অভাবনীয় । এছাড়া প্রতি ঘন্টায় পরামর্শ,আলোচনা-সমালোচনা রিসিভ করছি আমরা। আর এসবের ফলে মার্কেটের ইউজারএন্ড থেকে বিশেষজ্ঞ লেভেলে রিয়েল ফ্যাক্টটা আরো একবার লাইভ বিশ্লেষণ করা গেছে।

আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সকলেরই এই আগ্রহই বাংলাদেশি মার্কেটপ্লেসটিকে সফল করে তুলবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

তথ্যপ্রযুক্তিতে আমাদের কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে যেসব এই সেক্টরটির সাথে সম্পৃক্ত। যেমন ইলেক্ট্রনিক পেইমেন্ট, মোবাইল ভ্যাস, সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট এবং আউটসোর্সিং । আমাদের কোম্পানির কাজ বিশ্বব্যাপী সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, ইয়াহো ফাইন্যান্স, এমএসএন মানিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে আমরা বেশ গুরুত্বই পেয়েছি।

কিন্তু এটি বিশাল একটি উদ্যোগ। দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে একটু একটু করে এর কাজ করা হয়েছে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেসের মতো এতো বড় একটি প্লাটফর্মের যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ তা স্টার্টআপ উদ্যোগে সম্ভব ছিলো না।

বিশেষ করে সারা বিশ্বের বায়ার বা ক্লায়েন্টদের কাছে ব্যাপক ব্র্যান্ডিং, মার্কেটপ্লেসের নির্ভরযোগ্য কারিগরি সক্ষমতা, পেইমেন্ট পদ্ধতি, ইনভেস্টমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার এবং ক্লায়েন্টের আস্থা ও আগ্রহের তৈরি ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে সরকারি উদ্যোগের বিকল্প ছিলো না।

আর সরকারি এই উদ্যোগটা নিজে থেকেই নিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আজ এই দেশিয় মার্কেটপ্লেস যে আমরা পেতে যাচ্ছি তা প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব হতো না। আমরা দারুণ আশান্বিত হলাম যে তিনি এই দেশিয় মার্কেটপ্লেস নিয়ে অনেক দূর যেতে চান এবং আগে থেকেই ভেবে রেখেছেন এর সফলতার নানা দিক ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে।

এককথায় বলা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী উদ্যোগ না নিলে এটি অঙ্কুরেই ঝড়ে পড়তে পারত। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অফিসিয়ালদের আগ্রহে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ব্র্যান্ডিং, মার্কেটপ্লেসের নির্ভরযোগ্য কারিগরি সক্ষমতা, পেইমেন্ট পদ্ধতি, ইনভেস্টমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার এবং ক্লায়েন্টের আস্থা ও আগ্রহ তৈরিসহ ইত্যাদি বিষয়ে দেখভাল করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

আরও পড়ুন: ফ্রিল্যান্সারদের বাংলাদেশি মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সার

belancer

বিল্যান্সার একটি আন্তর্জাতিক মানের অনলাইন ওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস যা ওডেস্ক-ইল্যান্স, ফ্রিল্যান্সারের মতোই। আমরা এই মার্কেটে কাজ করার জন্য প্রথমে একটি গ্যাপ খুঁজে বের করি। যেমন, বাংলাদেশের মতো আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স রেস্ট্রিক্টেট কান্ট্রির গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসগুলোতে আমাদের লোকাল এপ্লয়াররা কাজ পোস্ট করতে পারেন না। তদুপরি অনেক ট্যালেন্ট ফ্রিল্যান্সাররা ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশি মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করতে পারেন না ।

আমাদের প্রাথমিক টার্গেট হচ্ছে লোকাল মার্কেট ডেভেলপ করার পাশাপাশি ব্যাপক পরিকল্পনার মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল এপ্লয়ারদেরকে সংযুক্ত করা। নেসেসিটি ইজ দা মাদার অফ ইনোভেশন- প্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট সবারই আমার মতো এমন অনেক অভিজ্ঞতা আছে যে একটা লোগো কোথায় বানাব, সুন্দর একটা বিজনেস কার্ড ডিজাইন করে দাও, ওয়েবসাইট বানাব, ডোমেইন হোস্টিং বা একটা সফটওয়্যার লাগবে অথবা ই-মেইলে হেল্প করে দাও। ঠিক এরকম হাজারো অনলাইনভিত্তিক কাজের কোয়েরি আসে এবং সবাই সব খবর রাখেন না বা একই কোম্পানি সব ধরনের কাজ করেন না।

এরমধ্যে মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষ অনুরোধ করে থাকেন যে তাদের না করা অসম্ভব অথবা নিজেকে প্রমান করার জন্য একটি সমাধান বের করে দিতে হয় নিজের মুল্যবান সময় নষ্ট করে । আবার এমনও অভিজ্ঞতা আছে অনেকের যে আপনি একজনকে রেফার করলেন, তিনি অনেক বেশি চার্জ করল বা অনেক কম চার্জ করার পরও আপনাকে অধিক চার্জের জন্য দোষারোপ করল।

সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হচ্ছে আমাদের লোকাল ডিজিটাল বায়ার এবং সেলারদের মাঝে প্রচন্ড অবিশ্বাস, পেইমেন্ট নিয়ে ঝামেলা। হয়ত বায়ার টাকা দিয়েছেন কিন্তু সেলার কাজ করে দেন নাই বা সেলার কাজ করে দিয়েছেন কিন্তু বায়ার টাকা দেননি এসব মিলিয়ে সর্বোপরি কমিটমেন্টের প্রচন্ড অভাব রয়েছে এখানে। এই কারণে আপনি খেয়াল করবেন গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে যারা কাজ করেন তারা লোকাল কাজ করতে চান না।

এবার আসি দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই মার্কেটপ্লেস কিভাবে ভ্যালু অ্যাড করবে? আমাদের মার্কেটপ্লেসটি প্রাথমিকভাবে এক্সক্লুসিভলি বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য । সকল কাজ জেনারেট করা হবে লোকালি এবং ইন্টারন্যাশনালি ।

বলা যেতে পারে, আমদের লোকাল মার্কেট সাইজও কিন্তু কম না। প্রায় ১৬০ মিলিয়ন ডলারে বাজার । আমাদের ২৩ লক্ষ ছোট ও মাঝারি কোম্পানি আছে যাদের অধিকাংশ আগামী ৫ বছরের মাঝে টেকনোলজিতে প্রসেস ট্রান্সফর্ম করবে । আমাদের প্রায় ১৫ হাজার আইটি গ্রাজুয়েট বের হয়ে এবং প্রায় ১৭ লক্ষ নতুন ছাত্র ভর্তি হয় ৮০টি সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে – যাদের জন্য লোকাল কাজ উন্মুক্ত থাকবে এবং একই সাথে ইন্টারন্যাশনাল কাজের উপযোগি হবে ।

পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে যে আরও ৭০হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি হচ্ছে তাদেরও একটি নিজেদের দেশে তৈরি নিজেদের মার্কেটপ্লেসে কাজ করার সুযোগ থাকবে। প্রাথমিকভাবে লোকাল কাজ করে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক কাজের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য বিল্যান্সারের কোন বিকল্প হতে পারে না।

বলা হচ্ছে পেইমেন্ট সিস্টেম কেমন হবে? যেহেতু আমাদের মার্কেটপ্লেসটি লোকাল এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাম্প্লয়ারদের জন্য তাই আমরা সকল ধরনের সুবিধা সম্বলিত পেমেন্ট সিস্টেম খোলা রেখেছি । লোকাল মার্কেটের জন্য অ্যামপ্লয়াররা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ভিসা, মাস্টার কার্ড, কিউ-ক্যাশ, বিকাশ, এমক্যাশ এবং অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা ডিপোজিট করতে পারবেন এস্ক্রু অ্যাকাউন্টে। ইন্টারন্যাশনাল ক্লায়েন্টদের জন্য আমাদের ইতিমধ্যে ইউএসএতে একটি পুর্ণাঙ্গ কোম্পানি খোলা হয়েছে ২০১৪ সালে এবং পেপ্যালসহ সকল পেমেন্ট সুবিধা রাখা হয়েছে।

এছাড়া ফ্রি্ল্যান্সারদের জন্য ডিরেক্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হবে। আমাদের প্রেফার ব্যাংকে তাদের অ্যাকাউন্ট থাকলে এক দিনেই টাকা পেয়ে যাবেন আর বিদেশি অ্যামপ্লয়ারদের ক্ষেত্রে অন্যান্য মার্কেটপ্লেসগুলোর মতো কম্পিটিশন করা হবে।

বিদেশি বায়ার ও ক্লায়েন্টদের কিভাবে এই মার্কেটপ্লেসে সংম্পৃক্ত বা আগ্রহ তৈরি করা হবে সে বিষয়ে বলা যাক এবার। প্রাথমিকভাবে আমাদের পুর্ণাঙ্গ টার্গেট হচ্ছে লোকাল মার্কেট ডেভেলপ করা। লোকাল আইটিইএস এবং নন- আইটি সফট ওয়ার্ক কাজগুলোকে মার্কেটপ্লেসে নিয়ে আসা এবং দেশি ফ্রি্ল্যান্সারদের মাঝে ডিস্ট্রিবিউট করা।

আমাদের সুনির্দিষ্ট মার্কেটিং এবং কাস্টমার ইকুইজিশন প্ল্যান আছে যা আপনারা সময়ের সাথে সাথে দেখতে পাবেন । এরমাঝে আমাদের সুনির্দিষ্ট প্লান হচ্ছে একটি প্রপার স্কিল প্রোফাইল করা যে ফ্রি্ল্যান্সার বলতে শুধু প্রোগ্রামিং বা ডিজাইন ওয়ার্ক বুঝায় না এইটা আমরা পরিবর্তন করতে চাই ।

আমাদের শ্লোগান হচ্ছে ‘সকলের জন্য কাজ’। আমরা তা সত্যিই কাজের মাধ্যমে দেখাতে চাই । বিদেশি বায়ারদের জন্যও আমাদের কিছু বিশাল কিছু পরিকল্পনা আছে। ইতিমধ্যে এই ফিল্ডে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা এখন স্ট্যাট্রেজি এবং প্লানিং লেভেলে কাজ করছি। এটার ফিজিবিলিটি, মার্কেট ট্রেকশন, মার্কেট কম্পিটিশন, ইউএসপি তৈরি করছি। আমরা হয়তবা স্কিল প্রোফাইলকে ক্যাটাগরাইজ করে ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্কেইজ করব । যেখানে হাই-স্কিল্ড এবং লো-স্কিল্ডকে ব্লেন্ড করে ইউএসপি ম্যাট্রিক্স তৈরি করে বিদেশি বায়ার অ্যাট্রাক্ট করা হবে ।

তাছাড়া আমরা সরকারের সহযোগিতা এবং মতামতের ভিত্তিতে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সাথে বাই-লিটারিয়াল করে কাজ আউটসোর্স করতে আক্রিস্ট করব । আমাদের কিন্তু ইতিমধ্যে একটা পজিটিভ ব্র্যান্ডিং করে রেখেছে আমাদের দেশের ফ্রি্ল্যান্সাররা। আমরা কিন্তু কাজ পাচ্ছি এবং আমরা সারা বিশ্বে ৩য় স্থানে থেকে তা প্রমান করেছি । যদিও পুরো প্লানটা এখনো হাই-লেভেল স্টেইজে আছে । আপনারা সময়ের সাথে সাথে বিষয়গুলো দেখতে পারবেন ।

আরও পড়ুন: নিজেদের মার্কেটপ্লেস : ভাবতে হবে অনেক কিছু

Box-illustration-outsourcing2

ইতিমধ্যে থাকা বিভিন্ন বিদেশি মার্কেটপ্লেসগুলোর সাথে কিভাবে প্রতিযোগিতা করবো আমরা? আমরা প্রাথমিকভাবে সেসব মার্কেটগুলোতেই টার্গেট রেখেছি যেখানে গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসগুলো কাজ করতে পারে না। আমরা সেই মার্কেটগুলো ফিল আপ করতে চাই। তাছাড়া বাংলাদেশ ৩য় বৃহৎ আউটসোর্সিং ডেস্টিনেশন। আমরা যে সারা বিশ্বে অন্যতম সেরা তা প্রমানিত। একই সাথে আমরা আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের দের গ্রুমিং করছি, সহযোগিতা করছি। পাশাপাশি আমাদের গ্লোবাল কোম্পানির মাধ্যমে অধিক সেবা নিশ্চিত করা হবে । আমরা শুধু একটি মার্কেটপ্লেস হিসাবে আত্বপ্রকাশ করছি না পাশাপাশি সেবানির্ভর প্লাটফর্ম তৈরিই আমাদের টার্গেট ।

বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডিং কিভাবে হবে? যেহেতু বাংলাদেশ ৩য় বৃহৎ ফ্রিল্যান্সিং ডেস্টিনেশন তাই আমাদের একটি ব্রেন্ডি তৈরি করা আছে। এখন শুধু অধিক সেবা এবং সততার মা্ধ্যমে নিজেদের প্রমান করা । পাশাপাশি আমরা স্কিল প্রোফাইল করে ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজে এগুবো। আর এসবই সরকারি নেতৃত্বে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় করা হয়।

বিল্যান্সারের কারিগরি দিক নিয়ে বলবো এবার। প্রায় দুই বছর ধরে এই সুবিশাল প্ল্যাটফর্মটিতে ১০জন ডেভেলপার কাজ করেছে। আমাদের ইউআই, সফটওয়ার আর্কিট্যাক্ট, কোডিং, ডেভেলপমেন্ট, সিকিউরিটি, অনলাইন পেইমেন্ট, সার্ভার তৈরি করেছে আমাদের দেশের প্রোগ্রামারাই। তাদের প্রায় সবারই গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।

আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে যেখানে অনেকে চেষ্টা করে চ্যালেঞ্জ ফেইস করেছে কিন্তু আমরা ইলেক্ট্রনিক পেইমেন্ট এবং ট্রানজেকশন স্পেশালিস্ট কোম্পানি তাই এই ম্যাথম্যাটিস্ক এবং এলগরিদমগুলো আমাদের জানা ছিল । এই ধরনের ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসগুলোতে এস্কু অ্যাকাউন্ট মেইনটেন করা, ক্যাশ-ইন , ক্যাশ-আউট, ফিনান্সিয়াল অপারেশন, সেটেলম্যান্ট অ্যান্ড রিকন্সিলিশান, ফ্রড ম্যানেজমেন্ট, ডিসপ্পিউট অ্যান্ড কনফ্লিক্ট রেজ্যুলেশন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল ।

বাংলাদেশের বাজার যে দেশিয় এমন একটি উদ্যোগের জন্য প্রস্তুত তা কিন্তু প্রমানিত। যেহেতু আমাদের লোকাল মার্কেট সাইজও বিশাল এবং বড় হচ্ছে ধীরে ধীরে। আমরা যদি ফেইসবুককে একটা ছোট পেরামিটার ধরি যে বাংলাদেশে প্রতি দুই মিনিটে একজন ব্যবহারকারী ফেইসবুকে যুক্ত হচ্ছেন। বেসিস মেম্বার সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোও দেখাচ্ছে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪ শতাংশ কনস্ট্যান্ট গ্রোথ বা তার চেয়ে বেশী ।

আমাদের ২৩ লক্ষ কোম্পানি আগামী ৫ বছরে টেকনোলজিতে প্রসেস মাইগ্রেট করবে । অনলাইন ওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস যেহেতু একটিও নেই এবং সবাই ব্যক্তিগত রেফারেন্সের উপর নির্ভর করে সেইসাথে বিডিং না থাকার কারণে সঠিক মুল্য কেউ পাছেন না। পেইমেন্ট সমস্যাতো আছেই। বিল্যান্সার এখানে আশার আলো।

দেশিয় এই মার্কেটপ্লেস নিয়ে সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করতে পারি গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির কথা।  আমাদের অর্থনীতিতে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় পাশাপাশি বিভিন্ন প্রনোদনা , প্যাকেজ অফার করা হয়ে থাকে।  কিন্তু হিসাব করলে দেখা যায় হয়ত ৩০ বিলিয়ন ডলার এক্সপোর্ট করি পাশাপাশি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ইম্পোর্ট করি।

অপরদিকে আমাদের প্রায় ৮০ লক্ষ শ্রমিক বিদেশে কর্মরত যারা এই বাংলাদেশের ফরেন রিজার্ভ ও ব্যবসাকে চলমান রেখেছে যার পুরোটাই নেট রেভেনিউ। যদিও সরকারি হিসাবে ১৫ বিলিয়ন ডলার আমরা আয় করি। প্রকৃতপক্ষে তা ২০ বিলিয়ন ডলার হওয়ার কথা ।

খেয়াল করলে দেখা যায়, আমরা যাদের অশিক্ষিত মনে করি ,অবহেলা করি তারা সবাই টোটাল ইকোনমিতে কন্ট্রিবিউট করছে। তারাই কৃষি কাজ করেছেন, গার্মেন্টে কাজ করছেন, শ্রমিক হিসাবে বিদেশে কাজ করেছেন।

অর্থাৎ আমরা যদি বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিতে ব্যাপক উন্নতি করতে চাই – আমাদের এই ইনারমস আনইউজড পটেনশিয়াল শিক্ষিত বেকার জনশক্তিদের কাজে লাগাতে হবে। আমাদের লোকাল মেইনস্ট্রিমে, ডিজিটাল এরেনাতে তাদের লিঙ্কেজ করাতে হবে। প্রতি বছর ১৭ লক্ষ ছাত্র- ছাত্রী ভর্তি হচ্ছে ইউনিভার্সিটিগুলিতে । তাদেরকে যদি এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাজে নিয়ে আসতে পারি আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের অর্থনীতি সিংহের গতিতে এগুবে ।

আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ ফ্রিল্যান্সার ইতিমধ্যে প্রমান করেছেন আমরা পারি। এখন একটি লোকাল মার্কেটপ্লেস দরকার ছিল যারা এনেক্সার সেবা নিয়ে আসতে পারবে। আর এটি বিল্যান্সার পূরণ করবে বলে আমার বিশ্বাস । আমি মনে করি ভবিষ্যতে বিল্যান্সার দেশের তথ্যপ্রযুক্তির টেক উদ্যোগের ক্ষেত্রে সফল একটি উদাহরণ হবে বিশ্বের কাছে।

বর্তমানে মার্কেটপ্লেসটির ডেভেলমেন্ট প্রায় শেষ দিকে। কারিগরিসহ  নানাদিক চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। বিল্যান্সারের ফেইসবুক পেইজে  যেকেউ যেকোন পরামর্শ রাখতে পারেন।

Share This

Share this post with your friends!

404 Not Found

404 Not Found


nginx/1.12.1
404 Not Found

404 Not Found


nginx/1.12.1
404 Not Found

404 Not Found


nginx/1.12.1